by admin | Jan 30, 2023 | Newspaper Report
ফিলিপ গাইন | Newspaper Link
সোমবার, জানুয়ারি ৩০, ২০২৩ ০৩:২৮ অপরাহ্ন | মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা-শ্রমিকদের ধর্মঘট। ছবি: মিন্টু দেশোয়ারা
চা শ্রমিকের অর্থনৈতিক ভাগ্য নির্ধারণ হয় যেসব বিষয়ের মাধ্যমে তার মধ্যে অন্যতম মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যকার ২ বছর অন্তর হওয়া চুক্তি। সেখানে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করে বাংলাদেশীয় চা সংসদ এবং শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন।
বাংলাদেশীয় চা সংসদ যেখানে চা বাগান মালিকদের প্রতিনিধিত্ব করে, সেখানে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ১ লাখ ৩৮ হাজার চা শ্রমিকের একমাত্র ইউনিয়ন এবং তাদের সম্মিলিত দরকষাকষির প্রতিনিধি (সিবিএ)।
এই ২ পক্ষের মধ্যে দ্বিবার্ষিক চুক্তি কখনোই সময়মতো সই হয় না। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর চুক্তি সই হয় ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ মেয়াদ শেষ হওয়ার ২ মাস পর চুক্তি সই হয়। চুক্তি সই হওয়ার পর বাগান মালিকরা ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২৬ মাসের বাড়তি মজুরি বকেয়া হিসেবে ৪ কিস্তিতে পরিশোধ করে। এই ২৬ মাসে প্রতিদিনের বাড়তি মজুরি ছিল ১৮ টাকা।
চা বাগানে এভাবে বকেয়া মজুরি পরিশোধ রীতিতে পরিণত হয়ে গেছে।
আরও জটিল বিষয় হচ্ছে, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালের জন্য চুক্তি এখনো সই হয়নি।
মজুরি নিয়ে চরম অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে এবং মজুরি না বাড়ানোর ব্যাপারে মালিকপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে ২০২২ সালের ৯ থেকে ২৭ আগস্ট নজিরবিহীন ধর্মঘট পালন করেন চা শ্রমিকরা। অবশেষে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে চা শ্রমিকের দৈনিক নগদ মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ তাদের মজুরি ১২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা বাড়ানো হলো। শ্রমিকদের যেখানে দাবি ছিল ৩০০ টাকা।
দাবি পুরোপুরি পূরণ না হলেও ২০ মাসের বকেয়া বাবদ ৩০ হাজার টাকা পাবেন, এমন আশা নিয়ে ২৮ আগস্ট থেকে তারা কাজে যোগদান করেন।
বাংলাদেশীয় চা সংসদের সচিব ড. কাজী মুজাফর আহমেদ সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘স্থায়ী শ্রমিকরা বকেয়া বা এরিয়ার পাবেন এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাথে আলোচনা করে আমরা ঠিক করবো কতো কিস্তিতে বকেয়া শোধ করা হবে। তবে সংসদ অস্থায়ী শ্রমিকদের বকেয়ার ব্যাপারে কিছু করবে না, কারণ তারা আমাদের পরিধির মধ্যে পড়ে না।’
অনেক বাগানে বকেয়া পরিশোধের প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায়। কিন্তু চা শ্রমিকদের জন্য বড় দুঃস্বপ্ন হলো মালিকপক্ষ চুক্তি সই নিয়ে গড়িমসি শুরু করে।
চুক্তির ব্যাপারে সমঝোতায় পৌঁছতে শ্রমিকপক্ষ ও মালিকপক্ষ ধর্মঘটের আগে ১৫টির মতো সভা করে। ধর্মঘটের পরে তারা আরও বেশ কয়েকটি সভা করে। সভায় অংশগ্রহণকারী শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদেরকে অবাক করে মালিকপক্ষ বকেয়ার পুরো টাকা তো দূরের কথা, আংশিকও পরিশোধ করতে রাজি নয়। কাজেই শ্রমিকরা ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট থেকে ১৭০ টাকা দৈনিক মজুরি পেলেও এখনো ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর মেয়াদকালের চুক্তি সই হচ্ছে না।
এ পরিস্থিতি চা বাগানে বকেয়া মজুরি পরিশোধের ব্যাপারে প্রচলিত নিয়মনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
সাধারণ শ্রমিকরা বকেয়ার ব্যাপারে কোনো রকম ছাড় দিতে নারাজ। নারী চা শ্রমিক এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের জুরি ভ্যালির ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্রীমতি বাউরি বলেন, ‘মালিক ও শ্রমিকের চুক্তিপত্র দেরিতে সই হয় এবং আমরা একটি মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরবর্তী মেয়াদের প্রথম দিন থেকে অতিরিক্ত মজুরি বকেয়া হিসেবে পেয়ে থাকি। আমরা পূর্ণমেয়াদের জন্য দৈনিক ৫০ টাকা হারে বকেয়া চাই।’
পাতাতোলা শ্রমিক কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর চা বাগানের বিশাখা (৪০) বলেন, ‘মালিকপক্ষ যদি চুক্তির মেয়াদ ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর না করে এবং আমাদের বকেয়া পুরোপুরি শোধ না করে, তবে আমরা আবার আন্দোলন করব।’ তিনি দৈনিক ১৭০ টাকা মজুরি পাচ্ছেন এবং দুর্গাপূজার সময় ৫ হাজার ৩০৪ টাকা উৎসব ভাতা পেয়েছেন। এই টাকা বার্ষিক উৎসব ভাতার ৬০ শতাংশ। বাকি ৪০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩ হাজার ৫৩৬ টাকা তিনি পাবেন ফেব্রুয়ারির ফাগুয়া উৎসবে। তিনি ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত পুরো সময়টা কাজ করেছেন। ২০ মাসের বকেয়া বাবদ তার ৩০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা।
দেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন এবং চা শ্রমিকদের একমাত্র ইউনিয়নের নেতারা মালিকপক্ষের সঙ্গে দরকষাকষিতে নাকানি-চুবানি খাচ্ছেন। অসহায় শ্রমিক নেতারা ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক আবেদনে উল্লেখ করেছেন, গত চুক্তির মেয়াদকাল শেষ হওয়ার পরদিন থেকে মালিকপক্ষ বর্ধিত মজুরি বকেয়া হিসেবে পরিশোধ করতে গড়িমসি করছে। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ মালিকপক্ষের একরোখা মনোভাবের কারণে ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর সর্বশেষ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে কোনো চুক্তি সই হয়নি।
২০২১-২০২২ সালের ২ বছর মেয়াদী চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩ দিন আগে ৭ ভ্যালির ৭ সহসভাপতি এবং বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির ৩ সদস্য শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সঙ্গে ঢাকায় এক বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে ইউনিয়নের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, বকেয়া পরিশোধের ব্যাপারে বাংলাদেশীয় চা সংসদ দৈনিক ৫০ টাকা নয় ১৭ টাকা দিতে চাচ্ছে। কিন্তু ইউনিয়নের অধিকাংশ নেতা এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় কোনো রকম ফলাফল ছাড়া সভার সমাপ্তি ঘটে।
যেকোনো শিল্পেই শ্রমিকদের জন্য যথাযথ মজুরি বোর্ড কাম্য। অন্যান্য শিল্পের তুলনায় চা শ্রমিকের মজুরি লজ্জাজনকভাবে কম নির্ধারণ করেছে এ পর্যন্ত গঠিত ৩টি মজুরি বোর্ড। প্রথমত চা শিল্পে নূন্যতম মজুরি বোর্ড অনিয়মিত অর্থাৎ প্রতি ৫ বছর পরপর গঠিত হয়নি। দ্বিতীয়ত সর্বশেষ মজুরি বোর্ড তার এখতিয়ার বহির্ভূত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছে এবং তার ফল মোটেও ভালো হয়নি। গত আগস্টে প্রধানমন্ত্রী ১৭০ টাকা মজুরি নির্ধারণ করে দেওয়ার পর এখনো ২০১৯ সালের অক্টোবরে গঠিত মজুরি বোর্ড আনুষ্ঠানিকতা সেরে মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করতে পারেনি।
যেকোনো শিল্পে মজুরি নির্ধারণের দায়িত্ব বর্তায় নূন্যতম মজুরি বোর্ডের উপর। কিন্তু চা শিল্প সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি শিল্প। এ শিল্পের শ্রমিকরা চা বাগানের সীমানার মধ্যে বাস করেন। তাদের নিজেদের কোনো ভিটেমাটি নেই। উত্তরবঙ্গ বাদ দিয়ে চা বাগানের বাকি সব জমির মালিক রাষ্ট্র।
কাজেই মজুরি বোর্ডে মালিকপক্ষের এখনকার দাবি ‘এখন থেকে মজুরি বোর্ডই মজুরি নির্ধারণ করুক’, এটা শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা না করে মানা সম্ভব নয়।
শ্রমিক প্রতিনিধি রামভজন কৈরীর মতে, মালিকদের আরেকটি প্রস্তাব হচ্ছে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের মধ্যে চুক্তি ৩ বছর পরপর হোক। আর যদি রীতি অনুযায়ী ২ বছর পরপরই তা হয়, তাহলে এ চুক্তি হবে মজুরি বাদে অন্যান্য বিষয় নিয়ে। মালিকপক্ষের এসব দাবি শ্রমিক প্রতিনিধি রামভজন কৈরী মানেননি। তার যুক্তিসঙ্গত মত হলো, শ্রমচুক্তি ও মজুরি বোর্ডের এসব বিষয় ফয়সালা হতে হবে মালিক, শ্রমিক ও সরকারপক্ষের মধ্যে উন্মুক্ত ও খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে এবং অবশ্যই শ্রমিকের স্বার্থ বিবেচনা করে।
চা শ্রমিকের বকেয়া পরিশোধ ও মজুরি বোর্ডে যে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে আশার জন্য মালিকপক্ষকে এখনই শ্রমিকের ন্যায়সঙ্গত দাবি মেনে ২০২১ সারের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২২ সারের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তি সই করা উচিত। এরপর ২০২৩ সালে ১ জানুয়ারি থেকে নতুন চুক্তির মেয়াদ শুরু হয়ে যাবে। আর নূন্যতম মজুরি বোর্ডকেই যদি চা শিল্পে মজুরি নির্ধারণ করতে হয়, তবে শ্রম আইনের ১৪১ ধারা অনুসরণ করে চা শ্রমিকের জীবনযাপনের ব্যয় এবং অন্যান্য শিল্পের নূন্যতম মজুরি বিবেচনায় নিয়ে সমাধান খুঁজতে হবে।
ফিলিপ গাইন: গবেষক ও সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের পরিচালক
(দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, দ্য ডেইলি স্টার কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার দ্য ডেইলি স্টার নিবে না।)
by admin | Jan 29, 2023 | Newspaper Report
by Philip Gain | Newsper Link
Sun Jan 29, 2023 08:00 AM Last update on: Sun Jan 29, 2023 08:00 AM | PHOTO: MOSTAFA SHABUJ
Foremost of the factors that determine the economic fate of tea workers in Bangladesh is the agreement that the Bangladesh Tea Association (BTA) and Bangladesh Cha Sramik Union (BCSU) sign every two years. While BTA represents owners of the tea gardens, BCSU is the only trade union for around 1,38,000 tea workers and their combined bargaining agent (or CBA).
However, this bi-annual agreement is never signed on time. For instance, the agreement effective for January 1, 2019 to December 31, 2020 was signed on February 25, 2021. The tea workers got their additional pay for 26 months in arrears in four instalments. Additional cash pay for these 26 months was Tk 18 per day.
For all latest news, follow The Daily Star’s Google News channel.
More baffling is the fact that no agreement has yet been signed for the period from January 1, 2021 to December 31, 2022. Such payment of arrears has become part of the culture in Bangladesh’s tea gardens.
Extremely dissatisfied with this delay and the stubbornness of BTA in not increasing wages, the tea workers went on an unprecedented strike from August 9 to 27 in 2022. Finally, the prime minister stepped in and fixed the daily cash pay at Tk 170, which is an increase of Tk 50 and Tk 130 less than what workers had demanded.
Still, they went back to work from August 28 in hopes that they would get the increased wage from January 2023. A registered worker who had worked all days during the 20-month arrear period would get Tk 30,000, a good sum for the impoverished tea workers.
Dr Kazi Muzafar Ahmed, secretary of the BTA, said in an interview with The Business Post last August, “The permanent workers will get arrears, and we will set the number of instalments in a meeting with the BCSU. The association will not facilitate any arrears for casual workers, as they are out of our purview.” Some gardens were preparing to roll such payment as well.
But the owners’ fickleness about signing of the agreement has come as a big shock to tea garden workers.
The BTA and BCSU had already had 15 meetings before the August 2022 strike, to reach an agreement. After the strike ended, they held several meetings. The tea workers’ representatives were shocked to find that owners were now reluctant to even pay part of the arrear, let alone the full. So, even though workers started receiving the daily cash pay of Tk 170 from August 28, 2022, there has been no headway for signing the January 1, 2021 to December 31, 2022 agreement. This situation contravenes the tradition regarding payment of arrears.
And common tea workers are reluctant to compromise: “The agreement between the owners and workers is signed late and we get the increased pay in arrears from the first day of the following agreement period,” says Sreemati Bauri (40), a tea worker and vice president of BCSU’s Juri Valley committee. “We want our full arrears at the rate of Tk 50 per day for the full agreement period.”
“If the owners do not sign and execute the agreement starting from January 1, 2021 and do not pay our arrears in full, we will go on strike again,” said tealeaf picker Bisakha (40) of Madhobpur Tea Estate in Kamalganj upazila.
The leaders of BCSU are having a hard time negotiating with the owners. Helpless, they have sent an appeal to the PM dated November 14, 2022 in which they pointed out that the owners are now reluctant to pay the increased daily wage starting after the expiration of the last agreement period. BCSU alleges that the arrogance of the owners is causing delay in the signing of the agreement even after the agreement period ended on December 31, 2022.
Three days before the end of the 2021-22 agreement period, a 10-member team of seven vice presidents of seven valleys and three central committee members of BCSU met the Director General of the Department of Labour (DL) in Dhaka. A number of the labour leaders have said that they have learned from an official of the Department of Labour that the owners were willing to pay the arrears at the rate of Tk 17 a day, not Tk 50. Some BCSU leaders were reportedly ready to compromise and accept arrears between Tk 25 and Tk 30. But the majority of leaders rejected this and the meeting ended with no positive outcome.
The three minimum wage boards set up so far for the tea industry have fixed much lower wages compared to other industries. First, the minimum wage board is irregular in the tea industry as it is not formed every five years. Second, the latest minimum wage board interfered in affairs beyond its jurisdiction and the outcome turned out to be unpredictably sad. The current wage board, set up in October 2019, has not even published the gazette finalising the wage structure.
In any industry, the responsibility of fixing wages is bestowed upon the minimum wage board. However, the tea industry is entirely exceptional. The workers in this industry live within the boundaries of the tea gardens. They do not have homesteads of their own. The state owns the land of the tea gardens, excluding those in north Bengal.
Therefore, the current proposal of the BTA to the government to “let the minimum wage board fix the wage” is not acceptable without elaborate discussion with workers.
According to Rambhajan Kairi, the workers’ representative, another BTA proposal is that the agreement between the BTA and BCSU be signed every three years. BTA also suggests if the agreement is signed every two years following the long tradition, it should deal with all other issues except wages. But Kairi’s reasonable argument is that the owners, tea workers, and the state must have open and elaborate discussions before bringing any change to the current tradition. And the workers’ interest must get the right consideration in such discussions.
For an exit out of the current stalemate, the BTA should immediately accept the legitimate demand of tea garden workers and sign the agreement for the period from January 1, 2021 to December 31, 2022. Then, the negotiation would be due for the following agreement period starting on January 1, 2023. On another note, if the minimum wage board is regularised in the tea industry, it must grant pragmatic consideration to the living costs of tea workers and other factors that section 141 of the labour laws mentions.
Phillip Gain is researcher and director at the Society for Environment and Human Development (SEHD).
by admin | Jan 23, 2023 | Uncategorized
“সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা ব্যাপক ও বহুমাত্রিক। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি আরো আছে নারী ও মেয়েদের প্রতি অবজ্ঞা ও ঘৃণা, যা সহিংসতার আরেকটি মাত্রা। এসবের যারা শিকার তাদের কথা ধৈর্য্য সহকারে শোনার মানুষের সংখ্যা অনেক কম বাংলাদেশে। এই শোনার জায়গাটা তৈরি করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
নারীর প্রতি সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন সহিংসতা বিষয়ে এভাবেই মতামত তুলে ধরেন তত্ত¡াবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা, পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্রাত্যজন রিসোর্স সেন্টার (বিআরসি)-এর গবেষণা উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। বিআরসি, সোসাইটি ফর এনভায়রমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (সেড), পিপিআরসি ও সহযোগী সংগঠনসমূহের উদ্যোগে ৩০ নভেম্বর ২০২২ ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে ড. রহমান মত ব্যক্ত করেন। লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ১৬ দিনের প্রচারাভিযান উদযাপন উপলক্ষে এই আলোচনা সভা ও এর সাথে ট্রান্সজেন্ডার সাংস্কৃতিক দলের একটি মনোজ্ঞ পরিবেশনার আয়োজন করা হয়।
যৌনকর্মী (যৌনপল্লী, রাস্তা ও হোটেলে কর্মরত), হিজড়া (ট্রান্সজেন্ডার), নারী চা শ্রমিক, বেদে নারী, মানবাধিকার কর্মী ও মহিলা সাংবাদিকসহ প্রায় ৮০ জন প্রতিনিধি নারীর প্রতি সংহতি প্রদর্শনপূর্বক এই সভায় মিলিত হন। এই প্রচারাভিযান বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত উদযাপিত হয় এবং ২০২২ সালে-এর মূল সুর ছিল ‘এক হও! নারী ও কন্যার উপর সহিংসতা বন্ধে প্রচারাভিযান’।
আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্যে সেড’র পরিচালক ফিলিপ গাইন নারী চা শ্রমিক, যৌনকর্মী, হিজড়া, আদিবাসী নারী এবং বেদে নারীদের সাথে ঘটে যাওয়া নানা ধরনের সহিংসতা এবং তাদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন।
আলোচনা সভার গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সহিংসতা, বিশেষত ধর্ষণ, চরম বৈষম্য ও বঞ্চনা ইত্যাদির শিকার নারীদের কণ্ঠস্বর সামনে নিয়ে আসা।
মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত শমশেরনগর চা বাগানের একজন শিক্ষিকা ২০১৫ সালে গণ-ধর্ষণের শিকার হন। তিনি তার সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, “ধর্ষণের ঘটনা প্রথমে গোপন রাখার চেষ্টা করেছি, আত্মহত্যার কথাও ভেবেছি। পরবর্তীতে আমি আমার পরিবার এবং ডাক্তারকে ঘটনা খুলে বলি এবং ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করি। কিন্তু মামলা করেও আজ পর্যন্ত আমি ন্যায়বিচার পাইনি। মামলার আসামীরা আজ জামিন নিয়ে জেলের বাইরে। তারপরও, এখনো আমি ন্যায় বিচার ও আসামীর শাস্তি হোক এটাই চাই।”
ট্রান্সজেন্ডার নারী অধিকার কর্মী জয়া সিকদার হিজড়াদেও অবর্ণনীয় দুর্দশার কথা সবার সামনে তুলে ধরেন। তিনি তাদের পরিচয় সম্পর্কে বলেন, “হিজড়া একটি পেশা বা সংস্কৃতি, এটা কোনো লৈঙ্গিক পরিচয় নয়। লৈঙ্গিক পরিচয়ের এই জায়গাটা সবার কাছে স্পষ্ট হওয়া উচিত।”
বাংলাদেশ আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী ফাল্গুনি ত্রিপুরা বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামের নারীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা তাদের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। এফআইআর করতে গেলে ভাষাগত সমস্যার কারণে অনেক তথ্য এদিক-ওদিক হয়ে যায়, ঠিকভাবে নথিভুক্ত হয় না। গোঁড়াতেই এমন গÐগোল হলে ন্যায়বিচারের আশা কীভাবে করা যায়!”
দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর বাসিন্দা লিলি বেগম গত ১০ নভেম্বর ২০২১ থেকে নিখোঁজ। এখন পর্যন্ত কোনো সুষ্ঠ তদন্ত বা আদালতে কোনো বিচার হলো না। আমরা জানতে চাই লিলি কি বেঁচে আছে কি না,” কাঁদতে কাঁদতে বলেন দৌলতদিয়া থেকে আসা কুমলি নামের এক যৌনকর্মী। পদ্মার পাড়ে রাজবাড়ী জেলায় অবস্থিত দৌলতদিয়া বাংলাদেশের ১১টি যৌনপ্ললীর মাঝে সর্ববৃহৎ এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম যৌনপল্লীর একটি যেখানে প্রায় ১৪০০ জন যৌনকর্মীর অবস্থান। প্রায়শই হত্যাকান্ডসহ চরম সহিংসতার ঘটনা ঘটে এই পল্লীতে।
সভায় অন্যান্য যারা নিজেদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলেন তারা হলেন শিশুদের জন্য আমরা’র সভাপতি হাজেরা বেগম (প্রতিষ্ঠানটি যৌনকর্মীর সন্তান ও পথ শিশুদের নিয়ে কাজ করে), সেক্স ওয়ার্কার্স নেটওয়ার্কের সভাপতি আলেয়া আক্তার লিলি, বৈকন্ঠপুর চা বাগানের নারী শ্রমিক মনি কল (বাগানের ম্যানেজার কর্তৃক নির্যাতনের শিকার) ও বেদে নারী তিতনা খাতুন।
উপস্থিত বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নেতৃ, আইনজীবি ও মানবাধিকার কর্মী লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার মূল কারণগুলো সম্পর্কে তাদের মতামত তুলে ধরেন। পাশাপাশি এ ধরনের সহিংসতার শিকার নারীদের সাহায্য প্রদানে, বিশেষ করে আইনি সহায়তা প্রদানে, তারা প্রতিশ্রæতি ব্যক্ত করেন।
বিষেশ অতিথি বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, “একজন যৌনকর্মীর ধর্ষণের মামলা করার পূর্ণ অধিকার আছে, তার অভিযোগ লিখতে পুলিশ বাধ্য।”
অ্যাডভোকেট আলী আরো বলেন, “আমাদের সোচ্চার থাকতে হবে প্রতিদিন, শুধু বছরের এই ষোলো দিন না। আমাদের আরো কাজ করতে হবে, প্রতিরোধ আরো দৃশ্যমান করে তুলতে হবে।”
একাত্তর টেলিভিশনের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স প্রধান মিথিলা ফারজানা সহিংসতার শিকার নারীদের গল্প সাধারণ মানুষ পর্যন্ত পৌঁছানোর বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে কথা বলেন। তিনি বলেন, “নারীদের সহিংসতা নিয়ে আমাদের গল্প অনেক, কিন্তু শুনছে অনেক কম মানুষ। গল্প উপস্থাপনের কৌশল জানতে হবে, পরিবেশনযোগ্য করে তুলতে হবে। গল্পগুলো শুধু আমরা নারীরা শুনলেই হবে না, পুরুষদেরও জানতে হবে নারীর সংগ্রামের কথা। মিডিয়ার মাধ্যমে এই গল্পগুলো সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।”
মিথিলা ফারজানার এই বক্তব্যের সাথে একমত প্রকাশ করেন বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু। “আমাদের এখন যা প্রয়োজন তা হলো একতা। ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। পুরুষকেও এই আন্দোলনে নিয়ে আসতে হবে। সবাই মিলে অধিকার আদায়ে আরো সোচ্চার হতে হবে,” বলেন মিস মিনু।
“একজন ধর্ষণের শিকার নারীকেই কেন প্রমাণ করতে হবে যে তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন,” প্রশ্ন তুলেন মিনু। “বরং অপরাধীকে প্রমাণ করতে হবে যে সে নিরপরাধ।”
নারীর নিজের গল্প নিজে বলা ও তা নিয়ে আলোচনার গুরুত্ব সম্পর্কে ড. রহমান বলেন, “নিজের গল্পগুলো বলতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য নারীকণ্ঠকে শক্তিশালী করে তুলতে হবে। এর সাথে হতে হবে কৌশলী। সামাজিক, মানসিক ও শারীরিক সহিংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হলে কোথায়, কখন ও কীভাবে নিজের কথা বলতে হবে তার কৌশল রপ্ত করাটা খুব জরুরী।”
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন মুক্তি মহিলা সমিতির নির্বাহী পরিচালক মর্জিনা বেগম ও আদিবাসী নারী কর্মী তন্দ্রা চাকমা।
হিজড়া সাংস্কৃতিক দলের মনোজ্ঞ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সভায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সঙ্গীত, নৃত্য, কবিতা পাঠ ও ছোট নাটিকার মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার শিল্পীরা নিজেদের প্রতিভা উপস্থাপনের পাশাপাশি সকল নারীর কাছে একটি সুন্দর বার্তা পৌছে দেওয়ার চেষ্টা করেন—পেশা ও সহিংসতা যে ধরনেরই হোক না কেন, সকল নারী শক্তিশালী, প্রত্যেকের নিজস্ব প্রতিভা আছে, আছে সম্ভাবনা। অর্থাৎ ঐক্যবদ্ধ নারী যেকোন সহিংসতা প্রতিরোধে সক্ষম। বার্তাটি প্রচারাভিযানের এই বছরের প্রতিপাদ্য ‘এক হও! নারী ও কন্যার উপর সহিংসতা বন্ধে প্রচারাভিযান’ এরই একটি প্রতিফলন।
by admin | Jan 23, 2023 | News & Updates
“Violence against women is widespread and multidimensional. Besides physical and psychological abuse, there is another dimension of violence and that is hatred and contempt against women and girls that systematic in society. In Bangladesh, there are very few people to patiently listen to the voices of the victims of violence. It is important to create space to hear the victims’ voices.”
This is how Dr. Hossain Zillur Rahman, former adviser to caretaker government, executive chairman of Power and Participation Research Centre (PPRC) and research adviser of Brattyajan Resource Centre (BRC) reflected on violence and hostility women face in society. He spoke as the chief guest in a discussion organized by Brattyajan Resource Centre (BRC), Society for Environment and Human Development (SEHD), PPRC and partner organizations on 30 November 2022 in Dhaka to celebrate 16 Days of Activism against Gender-Based Violence. A colourful cultural programme of a transgender team followed the discussion.
Around 80 victims of extreme violence from among sex workers based in brothels and working on the streets and hotels, Hijra (transgender), tea workers, Bede, rights activists and journalists came together at the day discussion and celebration to share their solidarity in the yearly global campaign that runs from 25 November to December 10. The theme of the campaign for 2022 was ‘UNITE! Activism to End Violence against Women & Girls’.
While Dr. Rahman chaired the meeting, Philip Gain, the program director of BRC gave an overview of violence and discrimination against women from the select groups—tea workers, sex workers and transgender, ethnic communities and Bede (gypsy) community—who attended the day-long event.
An important aspect of day-long event was to listen to the voices of women who have fallen victims of violence including rape, phenomenal discrimination and deprivation.
A victim of gangrape [in 2015] and a teacher of Shamshernagar Tea Estate in Moulvibazar district, spoke of her nightmarish experience: “I tried to hide that I was raped and I wanted to commit suicide. I then told my story to my family and the doctor and filed a lawsuit in the hope of getting justice. But to date, I have not gotten justice. The accused taken into custody secured bail and are at large. I still demand fair trial and the culprits brought to book.
Joya Sikder, a transgender woman activist, spoke of the plights of the transgender community. “Hijra is an occupation and transgender is our sex identity. Everyone should have a clear idea before using these terminologies.”
Falguni Tripura, coordinator of Bangladesh Adivasi Women’s Network, maintained, “Language is one of the biggest barriers for our women. It is due to this barrier that the facts are not properly recorded in FIR,” said Ms. Tripura. “If complaints are not recorded right, how can we expect justice out of it?”
“Lily Begum, an inmate of Daulatdia brothel, is missing since 10 November 2021. We still don’t see fair investigation and trial. We want to know is she alive or not,” said wailing Kumli, a sex worker of the largest of 11 brothels of Bangladesh and one of the largest brothels in the world located on the bank of river Padma in Rajbari district. Extreme forms of violence including killing are often reported from this brothel with around 1400 sex workers.
Hazera begum, president of Shishuder Jonno Amra (we are for children), an organization dedicated to the children of sex workers and street children; Aleya Akter Lily, president of Sex Workers’ Network (SWN); Moni Kol from Baikunthopur Tea Estate, a female tea worker facing coercion from the manager of the garden and Titna Khatun, a Bede (gypsy) woman also shared their personal stories and plights at the discussion.
The community leaders, lawyers and human rights defenders shared insights about the roots of gender-based violence and also committed assistance, including legal support, to the victims.
One of the special guests, advocate Salma Ali, president of Bangladesh National Woman Lawyers’ Association (BNWLA), said, “Every sex worker has the right to file a case for rape and it is absolutely compulsory for the police to take such complaints.”
Advocate Ali added, “We have to be vocal every day round the year, not just during these 16 days of campaign. We must take more actions to make our resistance efforts more visible.”
Ms. Mithila Farzana, head of current affairs of Ekattor Television talked on the media strategy of telling the stories of women facing violence. “We have endless stories of gender-based violence to tell but very few get public attention. We need to design right strategies in order to make our stories more presentable. We also need to involve men here. They must become aware of our struggles too. Media can help spreading these stories to draw maximum attention,” said Ms. Farjana.
Nasimun Ara Haque Minu, president of Bangladesh Nari Sangbadik Kendra (BNSK), agreed with Mithila Farzana saying, “Unity is all we need. Men must participate too in this movement. Together our voices should get louder.”
“Why does the victim have to prove that she was raped? Questioned Ms. Minu. “Rather it should be the other way around—accused must prove that he is innocent.”
On the significance of the story telling session and discussion, Dr. Rahman said, “Telling stories is a powerful means. So, the victims’ voices must be strengthened and they need to be strategic in telling their stories in the right places to build resistance against social, mental and physical violence.”
Morjina Begum, executive director of Mukti Mohila Samiti (MMS) and adivasi woman activist Tandra Chakma also spoke at the discussion.
The event turned into a celebration with amazing cultural show of the Hijra community. Songs, dances, recitation of poems and mini-drama of the Hijra artists showcased their talents and communicated a message that all women, irrespective of their occupations and despite the discrimination they face, have strengths and potentials. Thus, the message transpired, if united, women and girls can resist violence in many fronts. Thus, this year’s theme, ‘UNITE! Activism to End Violence against Women & Girls’, got a meaning at celebration.
Report by Philip Gain | Bangla
by admin | Jan 3, 2023 | Newspaper Report
ফিলিপ গাইন | bangla.thedailystar.net
মঙ্গলবার, জানুয়ারি ৩, ২০২৩ ১২:৫৯ অপরাহ্ন | চা-বাগানের নারী শ্রমিক। ছবি: ফিলিপ গাইন
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলায় ৬৯ বছর বয়সী নারী কমলা দাসী প্রায় ৩৫ বছর আগে বিধবা হয়েছেন এবং গত ১৫ বছর ধরে তিনি বিধবা ভাতা পাচ্ছেন। প্রথম দিকে ভাতা পেতেন ২০০ টাকা। এখন পান ৫০০ টাকা।
বাল্য বয়সেই কমলার বিয়ে হয় পাগলা দাসের সঙ্গে, যিনি আগে আরও ৪টি বিয়ে করেন এবং ৪ জনই ১টি করে ছেলে রেখে মারা যান। প্রথম ৪ স্ত্রী মারা যাওয়ার পরই কমলার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পাগলা দাসের মৃত্যুর পর নিজের মেয়ে ও ৪ সৎ ছেলেকে নিয়ে তার সংগ্রাম শুরু হয়। কোনো রকম স্বাক্ষরজ্ঞানহীন কমলা দিনমজুরি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে মেয়ে ও ৪ ছেলেকে নিয়ে জীবন যাপন করতে থাকেন। ছেলেরা বড় হলে কমলা দাসীকে তাদের বাবার কুঁড়ে ঘরে রেখে নিজেরা আলাদা সংসার করে। মেয়েকে বিয়ে দেন। ৩ বছর আগে সেও মারা গেলে কমলা একা হয়ে পড়েন। খাবার, পোশাক ও থাকার জায়গা জোগাড় করাই তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। কখনো ভিক্ষা করে, কখনো অন্যের বাড়িতে কাজ করে যা রোজগার করেন, তা দিয়ে বেঁচে থাকা কঠিন।
সর্বশেষ খবর দ্য ডেইলি স্টার বাংলার গুগল নিউজ চ্যানেলে।
কমলা দাসীর মতো দুঃস্থ নারীদের জন্য সরকারের একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আছে, যার নাম ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলাদের জন্য ভাতা’। এটি বাংলাদেশে বর্তমানে যে ১১৫টি প্রধান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে, সেগুলোর একটি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এর বাজেট ৩ হাজার ৪৪৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এ কর্মসূচি থেকে ৫৭ লাখ নারী উপকার পাচ্ছেন।
নতুন বছরে এ কর্মসূচির বাজেট ও উপকারভোগীর সংখ্যা আগের বছরের মতোই। অর্থাৎ বর্তমান অর্থবছরে উপকারভোগীর তালিকায় কোনো নতুন নাম যোগ হয়নি। এটি বেশ খারাপ খবর যে বিধবা ভাতা নামে অধিক পরিচিত এ ভাতায় নতুন কোনো নাম চলতি বছরে আর যোগ হচ্ছে না। অথচ অনেক বিধবা ও দুঃস্থ নারীর জন্য এ ভাতা খুব দরকার। জানা গেছে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত সমাজসেবা অধিদপ্তর যে ৮টি নগদ অর্থ প্রদানকারী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্পাদন করে, বয়স্ক ভাতাসহ সেসবের ৬টিতে নতুন নাম সংযোজন বন্ধ রেখেছে।
আর যারা তালিকায় আছেন, তারা যা পান, তা যৎসামান্য। মাসে ৫০০ টাকা দিয়ে কমলা দাসীর মতো একজন নারী কী করতে পারেন? এই বৃদ্ধ বয়সে ওষুধের পেছনেই তাকে মাসে ৮০০ টাকার মতো খরচ করতে হয়। কমলা বলেছেন, মাসে যদি ৩ হাজার টাকা পেতেন, তবে তাকে এত দুশ্চিন্তা করতে হতো না। কিন্তু এখন যে টাকাটা পান, তা কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।
কমলা দাসীর মতো লাখো নারী আছেন, যারা এই ভাতা পাওয়ার যোগ্য, কিন্তু পাচ্ছেন না। তালা উপজেলার খেসড়া ইউনিয়নের ৪৮ বছর বয়সী নূরজাহান তাদেরই একজন। ৩ ছেলে-মেয়ে রেখে তার স্বামী মারা গেছেন ২০০৫ সালে, যাদের বয়স এখন ২৩ থেকে ২৮ বছরের মধ্যে। তিনি ইউনিয়ন পরিষদে অনেকবার গিয়েছেন, চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কখনো বিধবা ভাতার জন্য কার্ড করতে পারেননি। কেউ তার কাছে ঘুষ না চাইলেও তার ধারণা, যদি তিনি কিছু খরচ করতে পারতেন, তবে ভাতা প্রদানের জন্য যারা তালিকা করেন, তারা তার দিকে নজর দিতেন।
নূরজাহান কৃষিশ্রমিক এবং ১ শতক জমির ওপর তার ভিটে। তিনি তার আশেপাশের অনেককে চেনেন যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা তার চেয়ে অনেক ভালো অথচ বিধবা ভাতা পাওয়ার তালিকায় তাদের নাম আছে। তিনি যা বলছেন, তার মানে হলো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য যারা নির্বাচিত হচ্ছেন, তাদের অনেককে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বা ভুল করে উপকারভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে, যা সরকারি বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
মাঠ অনুসন্ধান ও কেস ডকুমেন্টেশন থেকে অনেক জোড়ালো প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে এমন অনেকে উপকার পেয়েছেন, যাদের পাওয়ার কথা নয়। উপকারভোগী নির্বাচনে এমন ভুলের কারণে অনেক যোগ্য প্রার্থী বাদ পড়ছেন। কারণ প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে প্রতিটি কর্মসূচির জন্য উপকারভোগীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। সাতক্ষীরাভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উত্তরণের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৪৪২ ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৫ শতাংশ কোনো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে উপকার পায় না। এতে উপকারভোগী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার অবস্থাটা আঁচ করা যায়।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং বাদ পড়া নিয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমন সব পরিবারের ৩৬ দশমিক ৪ শতাংশের মাথাপিছু আয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীদের আয়ের দ্বিগুণ। যেসব কারণে এমন অনিয়ম হচ্ছে, তার মধ্যে উপকারভোগী নির্বাচনে রাজনৈতিক বিবেচনা, দক্ষতার অভাব, দুর্বল শাসন, জটিল প্রশাসন, দায়বদ্ধতার অভাব ও দুর্নীতি অন্যতম। এসবের মধ্যে আবার প্রান্তিক, সুবিধাবঞ্চিত, বাদপড়া ও ভূমিহীন গোষ্ঠীগুলোর অন্তর্ভুক্তিতে ঘাটতি বেশি।
বিগত বছরগুলোয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য সরকারের বাজেট বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা সামগ্রিকভাবে বাড়লেও বাজেটের একটা বড় অংশ যাচ্ছে যারা দরিদ্র নয় এমন মানুষের কাছে। যেমন: ২০২১-২০২২ সালে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাজেটের ২৫ দশমিক ১৮ শতাংশ ৬ লাখ ৩০ হাজার সরকারি কর্মচারীর অবসর ভাতা এবং ২ লাখ ১৩ হাজার মুক্তিযোদ্ধার ভাতা, সম্মানী ও চিকিৎসা বাবদ প্রদান করা হয়েছে। একই অর্থবছরে এই বাজেট থেকে ১০ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা, যা বাজেটের ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ ব্যয় হয়েছে সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (কুটির শিল্পসহ) জন্য ভর্তুকি দিতে। বিশ্বব্যাপী অবসরভাতা ও সঞ্চয়পত্রের মুনাফা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না।
বিভিন্ন সূত্রমতে, সামাজিক নিরাপত্তার জন্য মোট বাজেট থেকে দরিদ্র নয় এমন মানুষের হাতে যেসব সুবিধা যাচ্ছে, তা যদি বাদ দেওয়া হয়, তবে জিডিপির ১ শতাংশেরও কম যায় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে। যদিও ২০২১-২২ অর্থবছরে কাগজে কলমে তা জিডিপির ২ দশমিক ৮ শতাংশ। পিছিয়ে পড়া মানুষ, তা সে হোক ভূমিহীন, দুঃস্থ নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, সামাজিকভাবে অচ্ছুত, দরিদ্র অথবা হতদরিদ্র, বাজেটে এ ধরনের বরাদ্দ তাদের কারোরই কাম্য নয়।
হরিজন, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত চা-শ্রমিক, হিজড়া, বেদে, পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র জাতি ও পেশাগত সম্প্রদায় ও এই অঞ্চলের খাদ্য সহায়তা পায় এমন সব জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ৮ রকম সুবিধা বরাদ্দ আছে। এই বরাদ্দের পরিমাণ ২০২১-২০২২ সালে ১ হাজার ৩৮ কোটি টাকা, যা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাজেটের দশমিক ৯৩ শতাংশ। উপকারভোগীর প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় এই বরাদ্দের পরিমাণ অনেক কম। তাই কিছু সাহায্য পেলেও তা মোটেও যথেষ্ট নয়। এসব জনগোষ্ঠীর মাঝে বিরাজমান দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র ও আধুনিক দাসত্ব থেকে তাদের বের করে আনতে হলে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে তাদের জন্য বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে।
আধুনিক দাসত্বের জালে আটকে পড়া যৌনকর্মী, যারা প্রতিনিয়ত চরম সহিংসতা, শোষণ ও নির্যাতনের শিকার হন, তাদের জন্য বাজেটে আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই। পুনর্বাসনসহ নিজেদের সামগ্রিক কল্যাণের জন্য একটি আলাদা কর্মসূচির দাবি তাদের। এমন দাবি অযৌক্তিক নয়, বরং যথাযোগ্য বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বাংলাদেশের ১১টি যৌনপল্লী, বিভিন্ন হোটেল, বাসা-বাড়ি ও রাস্তায় কর্মরত প্রায় ১ লাখ যৌনকর্মীর অনেকেই তাদের পেশা পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক। সন্তানদের শিক্ষার জন্যও প্রয়োজন সাহায্যের। এমন মানবেতর জীবনযাপন সত্ত্বেও তারা আমাদের সমাজের কারো বিবেচনায় আসেন না, থেকে যান নজরের বাইরে।
আরেকটি চিন্তার বিষয় হলো, বাংলাদেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ভূমিহীন অথবা কার্যত ভূমিহীন। খাস জমি ও ভূমিহীন জনসংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থা যেসব তথ্য-উপাত্ত দিচ্ছে, তা পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের মোট পরিবারের প্রায় ৭৭ শতাংশ হয় সম্পূর্ণ ভূমিহীন অথবা ভাড়া নিয়ে অন্যের জমি ব্যবহারকারী এবং ৫ শতাংশ ভূমির মালিকানা আছে এমন।
একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য সেখানকার দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভূমির মালিকানা ও ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত হওয়া জরুরি। বাংলাদেশে ৩৩ লাখের মতো সরকারি খাস জমি রয়েছে, যা ভূমিহীন মানুষের মাঝে বিতরণ করা সম্ভব। এর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে একটি আলাদা কার্যক্রম চালুর প্রস্তাবও ইতোমধ্যে সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে। এরকম বিশেষ কার্যক্রম দারিদ্র্য নিরসন কৌশলের আদর্শ হিসেবেও কাজ করতে পারে।
সামনের দিনগুলোতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে আরও কার্যকরী করে তোলার অনেক বড় দায়িত্ব এখন সরকারের। একদিকে সরকারকে যেমন এসব কর্মসূচির যথার্থ বাস্তবায়নে বিভিন্ন অনিয়ম দূর করতে হবে, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনসংখ্যার ওপর সুষ্ঠু তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং উপকারভোগীর একটি বাস্তব ও প্রকৃত তালিকা নির্ধারণ করতে হবে, এর পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের অবসর ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও সঞ্চয়পত্রের সুদ— এই কার্যক্রমগুলো সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে আলাদা করতে হবে, যেন প্রকৃত সুবিধাবঞ্চিত উপকারভোগীর অন্তর্ভুক্তি ও প্রাপ্ত ভাতার পরিমাণ সুষ্ঠুভাবে বৃদ্ধি পায়।
এই মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত প্রকৃত উপকারভোগীর অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর ব্যাপারে। এই উদ্দেশ্যে যত দ্রুত সম্ভব উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কেবল তখনই বাংলাদেশের পক্ষে তার জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র প্রণয়নের যে মূল উদ্দেশ্য, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নিরাপত্তা পদ্ধতি গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করে মানবিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সমাজের মানুষের কল্যাণ সাধন’, তা অর্জন করা সম্ভব হবে।
তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে লেখককে সাহায্য করেছেন ফাহমিদা আফরোজ নাদিয়া, মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান ও সাবরিনা মিতি গাইন।
ফিলিপ গাইন: গবেষক ও সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভলপমেন্টের (সেড) পরিচালক
Philip.gain@gmail.com
(দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয় নীতিমালার সঙ্গে লেখকের মতামতের মিল নাও থাকতে পারে। প্রকাশিত লেখাটির আইনগত, মতামত বা বিশ্লেষণের দায়ভার সম্পূর্ণরূপে লেখকের, দ্য ডেইলি স্টার কর্তৃপক্ষের নয়। লেখকের নিজস্ব মতামতের কোনো প্রকার দায়ভার দ্য ডেইলি স্টার নেবে না।)